India Rag Exclusiveবিশেষ

কার্গিলের মহানায়ক বিক্রম বত্রা! যার ভয়ে থর থর করে কাঁপতো পাক কমান্ডোরা

কার্গিলে (Kargil) ৫১৪০ নম্বর পোস্টে কবজা করার পর টিভিতে ‘ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর” বলে সর্বোচ্চ বলিদানি জওয়ান গোটা ভারতবর্ষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। কার্গিল বিজয়রথের সারথি বীর জওয়ান বিক্রম বত্রা (Vikram Batra) কারগিলের রণভূমিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। কার্গিল বিজয় দিবসের এই পুণ্য দিনে আমরা মহান বিক্রম বত্রার আত্মাকে India Rag এর তরফ থেকে জানাই কোটি কোটি প্রণাম।

২০ বছর আগে ৭ জুলাই ১৯৯৯ সালে কারগিল হিরো বিক্রম বত্রা নিজের সাথী অফিসারদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেছিলেন। ওনার মৃত্যুর পর ওনার গল্প শুনে গোটা দেশ কেঁদেছিল। কারগিল যুদ্ধের কয়েকমাস আগে বিক্রম বত্রা ছুটিতে নিজের বাড়ি পালমপুর গেছিলেন, আর সেখানে বন্ধুদের ট্রিট দিতে ন্যুগাল ক্যাফেতে নিয়ে গেছিলেন।

সেখানে ওনাকে ওনার এক বন্ধু বলেন, ‘এবার তুমি সেনায় আছো। নিজের খেয়াল রাখবে।” এরপর বিক্রম বলেন, আমার চিন্তা করোনা, আমি জিতে তিরঙ্গা উড়িয়ে আসব, আর নয়তো সেই তিরঙ্গাতেই মুড়ে আমাকে বাড়িতে আনা হবে। কিন্তু আমি আসব এটা নিশ্চিত।”

বিক্রম বত্রাকে পরমবীর চক্রে সন্মানিত করা হয়েছিল। এই সন্মান ওনাকে ১৯৯৯ সালে মরণোত্তর দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ বলিদান দেন। হিমাচল প্রদেশের পালমপুরে ১৯৭৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিক্রম বত্রা। ১৯ জুন ১৯৯৯ সালে বিক্রম বত্রার নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান আর্মি পাকিস্তানিদের কাছ থেকে ৫১৪০ নং পোস্ট ছিনিয়ে নেয়। ওই পোস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর স্ট্যাটের্জিক ছিল।

ওই পোস্ট থেকে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীরা ভারতীয় সেনার উপর গুলি চালাচ্ছিল। আর এই পোস্টে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করার পর বিক্রম ৪৮৭৫ নং পোস্ট জয়ের জন্য চলে যায়। ওই পোস্ট সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল।

৭ জুলাই ১৯৯৯ সালে এক আহত অফিসারকে বাঁচাতে গিয়ে বিক্রম বত্রা প্রাণ হাআন। ওই অফিসারকে বাঁচানোর সময় ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রা বলেছিলেন, ‘তুমি চলে যাও, তোমার বৌ-বাচ্চা আছে।” বিক্রম বত্রার সঙ্গী নবীন ওনার সাথেই বাঙ্কারে ছিল। নবীন বলেন, “আচমকাই একটি বোমা আমাদের পাশে এসে ফেটে যায়। আমি আহত হয়ে গিয়েছিলাম। বিক্রম তখনই আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরফলে আমি বেঁচে যাই, কিন্তু বিক্রম আর ফিরে আসেনা।”

দেশের মাটি রক্ষা করতে গিয়ে সে নিজের প্রাণ দিয়ে দেয়। ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রার বীরত্বের কাহিনী শুধু ভারতেই না, পাকিস্তানেও বিখ্যাত। আসলে পাকিস্তানের সেনার মধ্যে বিক্রম বাত্রার পরাক্রমের কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল। যে কারণে পাক সেনা বিক্রম বাত্রার নাম শুনেই কেঁপে উঠতো। পাকিস্তানি সেনা বিক্রম বত্রার নাম দিয়েছিল ‘শের শাহ”

Related Articles

Back to top button