নতুন খবরভারতবর্ষ

জিন্নাহ টাওয়ারে তেরঙ্গা উত্তোলনে বাধা, পুলিশের আক্রমণেও জাতীয় পতাকা ছাড়লেন না যুবক! ভাইরাল ভিডিও

গুন্টুরঃ প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ‘জিন্নাহ টাওয়ারে’ ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হিন্দু বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করেছে অন্ধ্র প্রদেশের গুন্টুর পুলিশ। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, হিন্দু বাহিনীর সদস্যরা হাতে তেরঙ্গা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং পুলিশ তাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করছে। তারা ভারত মাতা কি জয় ও বন্দে মাতরম স্লোগান দিচ্ছে। হিন্দু বাহিনীর সদস্যদের বাড়বাড়ন্তের পর পুলিশ টাওয়ারের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে এবং সেখানে ব্যারিকেডও দেয় যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

নিজের দেশে ভারতের পতাকা উত্তোলনের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ‘জিন্নাহ টাওয়ার’-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলনের চেষ্টাকারী ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা প্রশ্ন করছে ভারতে এখনও জিন্নাহর নামে একটি টাওয়ার কেন রয়েছে?

গুন্টুরে যেই ‘জিন্নাহ টাওয়ার’-র উপর হিন্দু বাহিনীর সদস্যরা তেরঙ্গা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিল তার নামকরণ করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে। ভারতে কেন জিন্নহার নামে টাওয়ার? এই প্রশ্নের জবাবে জানা গিয়েছে যে, জিন্নাহর প্রতিনিধি লিয়াকত আলী খান স্বাধীনতার আগে গুন্টুর সফর করেছিলেন। সেই সময় খানকে সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) নেতা এস ম লাল জান বাশার দাদু লাল জান বাশা। তিনিই এই মুসলিম লীগের নেতার সম্মানে একটি টাওয়ার নির্মাণ করেছিলেন, যা আজ ‘জিন্নাহ টাওয়ার’ নামে পরিচিত। টাওয়ারটি ছয়টি স্তম্ভের উপর নির্মিত হয়েছিল। একই সঙ্গে কেউ কেউ বলছেন, শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে মহাত্মা গান্ধী রোডে এই টাওয়ার বসানো হয়েছে।

আপনাদের বলে দিই যে, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার বিজেপি নেতারা ক্রমাগত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামে গুন্টুরের ‘জিন্নাহ টাওয়ার’-র নাম পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলেন। যারা টাওয়ারে তেরঙ্গা উত্তোলনের চেষ্টা করছিল তাঁদের গুন্টুর পুলিশ জোরপূর্বক আটক করার পর বিতর্ক আরও বেড়ে যায়। বিজেপি রাজ্য নেতারা এই টাওয়ারের নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেছেন যে, ৭৫ বছর পরেও ‘দেশদ্রোহী’র নামে টাওয়ারের নামকরণ করা দেশের অপমান।

Related Articles

Back to top button