আন্তর্জাতিকনতুন খবর

ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে কিউবা! কমিউনিস্ট শাসনের থেকে মুক্তি চেয়ে রাস্তায় নেমে গণআন্দোলন দেশবাসীর

ওয়েব ডেস্কঃ কমিউনিস্ট মানসিকতায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের কাছে কিউবা মানেই হচ্ছে আদর্শ পথপ্রদর্শক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। টিকা, খাদ্য, চাকরি, ওষুধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কমিউনিস্ট শাসিত গর্বিত দেশ কিউবা।

রাজধানী হাভানার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ ও গণআন্দোলন। তাতে সামিল হয়েছে সাধারণ কিউবার মানুষ। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরই রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল ডিয়াজ ক্যানেলের প্রতি ক্ষুব্ধ, কটূক্তি থেকে শুরু করে তীব্র নিন্দায় মুখর তাঁরা। স্বৈরশাসনের জেদ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকবৃন্দ। উল্টো দিকে রাষ্ট্রপতি ডিয়াজ ক্যানেল কিউবার এই অশান্তির জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।

কিউবার এই বিক্ষোভের বিভিন্ন মুহুর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ভাইরাল হয়ে উঠেছে। স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করতে চায় জনগণ। তারা জানিয়েছে তারা একফোঁটাও ভয় পাননা। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ভিডিওগুলিতে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সংযত করতে পুলিশ পদক্ষেপ নেয়নি বরং পুরো বিষয়টি বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সোভিত ইউনিয়নে ভাঙন ধরার পর করোনাভাইরাসের প্রবল দাপট – এই দুয়ের জাঁতাকলে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রবল অর্থ ও সামাজিক সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশটি করোনার তৃতীয় তরঙ্গের দাপটে নাজেহাল। ওষুধ আর নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর চরম সংকট দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। ১৯৫০ সাল থেকেই এই দেশে কমিউনিস্ট রাজ চলছে। দেশবাসীদের বর্ণনায় যা স্বৈরশাসনের নামান্তর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, ১৯৫০ সালের পর থেকে এই গণ আন্দোলনকে কিউবায় সবথেকে বড় আন্দোলন বলে মনে করছেন।

বেশ কিছুদিন আগে টিভিতে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ ক্যানেল বলেন, আমেরিকার ইন্ধনেই দেশকে অস্থির করার জন্য কিছু ভাড়াটে বিপ্লবী এই কাজ করছে। এই কথা শুনে আরও খেপে ওঠে জনতা। একদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় রীতিমতো ব্যর্থ কিউবা প্রশাসন। প্রশাসনের এই ব্যর্থতার জেরে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে মানুষ।

অনেক প্রতিবাদী নিজেদের ফোন থেকে সরাসরি বিক্ষোভ সম্প্রচারের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ। কারণ কমিউনিস্ট শাসকের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে কিউবা প্রশাসন যথারীতি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বাসিন্দাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপে বাধাদান হতে দেবে না।

Related Articles

Back to top button